প্রবাসীদের র’ক্ত পানি করা ১৫ লাখ রিয়াল নিয়ে চম্পট দিলো আরেক প্রবাসী

প্রকাশিত: Sep 9, 2020 / 11:39pm
প্রবাসীদের র’ক্ত পানি করা ১৫ লাখ রিয়াল নিয়ে চম্পট দিলো আরেক প্রবাসী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হারা নামক এলাকা থেকে ইরফান আলী ওরফে ইমরান নামের এক বাংলাদেশি ঠিকাদার দেড় শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৯ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৩ টাকা। ঠিকাদার ইমরানের মাধ্যমে জরুরি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জিয়া আল হোলা কোম্পানিতে স্টিল ফিকচার, কার্পেন্টার ও ম্যাশনসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো বিশ্ব যখন থমকে ছিল, ঠিক তখনই নিজেদের জীবন বাজি রেখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় কাজ করেন এই শ্রমিকরা। শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, লকডাউনের আগে ফেব্রুয়ারি এবং পরে মার্চ, এপ্রিল, জুন, জুলাই পর্যন্ত কারো দুই মাসের, কারো চার মাসের বেতন না দিয়েই পালিয়ে গেছেন তিনি। ‘আজ দিব, কাল দিব’, ‘চেক পাইনি’ এমন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতেন।

শ্রমিকরা ইমরানের অধীনে যে কোম্পানির কাজ করতেন সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কোম্পানি থেকে সব টাকা নিয়ে গেছেন ইমরান। ইমরানের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হরিধরপুর ইউনিয়নের ঘহরপুর গ্রামে। তাঁর বাড়ি সিলেট বিভাগে হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক সিলেট অঞ্চলের।

ইমরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি সৌদি আরবে অবস্থানরত তাঁর ছেলেকেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। আমির উদ্দিন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘গত কোরবানির ঈদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারিনি। আমরা এখানে কষ্টে দিন পার করছি।’

এমন অবস্থায় ভুক্তভোগীরা দেশে টাকা না পাঠাতে পারায় পরিবারের মধ্যে অভাব-অনটন নেমে এসেছে। অবশেষে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সাধারণ খেটে খাওয়া এসব প্রবাসী। সবার পক্ষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মো. আবু ফয়েজ।

শ্রমিকরা তাঁদের টাইমশিট হাতে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ আকুতি জানান।

শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ওলিউর রাহমান, সামসুল ইসলাম, ফারুক মিয়া, তৈবুর রহমান, মানিক মিয়া, আসকর আলী প্রমুখ। এ সময় তাঁরা বলেন, ‘আমাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকা ফেরত পেতে ইমরানের সন্ধান দেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

রিয়াদে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর বসবাস। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মরুর এই দেশটি। তার মধ্যে নির্মাণ খাতে বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করছেন।