সংবাদ শিরোনাম :

ঋণের বোঝা নিয়ে খালি হাতে ফিরছে অনেক প্রবাসী

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১৮
  • ১০৩ যত সময় দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিদেশি শ্রমবাজার। কারণ রেমিটেন্স থেকে প্রাপ্ত আয় আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এ শ্রমবাজারের আসা অধিকাংশই বাংলাদেশি নিম্নবিত্ত পরিবারের বেকার সন্তানরা। যারা নিজেদের ও পরিবারে আর্থিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। তবে বিদেশে যাওয়া এ মানুষগুলোর অনেকেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করেই দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে খালি হাতে। যার কারণে বিদেশ ফেরত পরিবারগুলোতে দেখা দিচ্ছে অসহায়ত্ত্ব ও আর্থিক অনটন।

ঋণ করে বিদেশ ফেরত রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আশা নামের একটি এনজিও থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ করে দালালের মাধ্যমে সৌদিআরব যান তিনি। রাশেদুল বলেন, দালালরা তাকে জানিয়েছিলো একটি কনস্ট্রাকশন কাজে শ্রমিক হিসেবে যাচ্ছেন তিনি। যেহেতু সে বৈধ ভিসায় সৌদি আরব যাচ্ছে তাই যে কোম্পানির হয়ে কাজ করবেন সেখানে দুইবছর কাজ করতে পারবেন তিনি। কনস্ট্রাকশন কাজে বেতন পাবেন প্রতিমাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। রাশেদুল বলেন, ‘এমন ভালো সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি’। যার কারণে ঋণ করেই পাড়ি দেন সৌদি আরবে। কিন্তু সৌদি পৌছে তিনি দেখতে পান পুরো বিপরীত চিত্র। কারণ তিনি জানতে পারেন বৈধ নয় অবৈধভাবে ফ্রি ভিসায় সৌদিআরবে গেছেন তিনি। যেহেতু ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবে গেছেন, তাই তাকে নিজের থেকেই কাজ খুঁজে নিতে হবে অচেনা এ দেশটিতে। একদিকে অপরিচিত ভাষা আর পরিচিত মানুষের অভাব, আর অন্যদিকে এনজিও‘র ঋণ পরিশোধের চিন্তায় হাপিয়ে উঠেন তিনি। তবে খুব কষ্ট করে হলেও সৌদি আরবের একটি বাংলাদেশি দোকানে কাজ শুরু করেন রাশেদুল। যেখানে তিনি বেতন পেতেন মাত্র দশ হাজার টাকা। তারপরও খুব কষ্ট করে সৌদি আরবে থেকে দেশের টাকা পরিশোধ করা শুরু করেন রাশেদুল।
কিন্তু সৌদি আরবের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করায় ঋণের টাকা পরিশোধ না করেই দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হন তিনি। পরিবারের উন্নতি করার জন্য বিদেশে যাওয়া রাশেদুলের সামনে এখন পাহাড় সমান ঋণ। রাশেদুল বলেন, ‘যে উন্নতি করার জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলাম সে দেশ থেকে ফেরত এসে আজ আমি পথের ফকির। একদিকে পুরো পরিবার চালাতে হচ্ছে তাকে অন্যদিকে এনজিও ঋণ পরিশোধ করা অনেকটাই অকাশকুসুম কল্পনার মতো।’ রাশেদুল বলেন, যারা ফ্রি ভিসায় সৌদি আরব যায় তারা শুধু নয় যারা সেদেশে কাজ করছে তাদের অবস্থাও একই।

কারণ সৌদি আরবে নিয়ম হচ্ছে, পদ খালি থাকলে সেখানে বিদেশি শ্রমিকদের নেয়া যায়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি মন্দা দেখা দেয় এবং লোক ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে প্রথম ধাক্কাটা বিদেশি শ্রমিকদের উপরই যায়। এমন পদ্ধতির কবলে পড়ে গত বছর অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকেই সৌদি আরব ছাড়তে হয়েছে। ঋণের বোঝা নিয়ে যারা বিদেশে যাচ্ছে তারা দালালের খপ্পরে পড়ে ঋণ পরিশোধ না করেই দেশে ফিরে আসছে। আবার অনেকেই সেদেশে গিয়ে কাজ খুজে নিতে হচ্ছে। যার কারণে নতুন দেশে সহজেই কাজ খুজে না পেয়ে ঋণের পরিমান দিনদিন বাড়ছে তাদের। এতে চাপ সামলাতে না পেরে অনেকেই এমনকি আত্মহত্যাও করছে শেষ পর্যন্ত।
তাই রাশেদুল বলেন, কেউ বিদেশে গেলে অবশ্যই যেনেশুনে যাওয়া উচিত। কি ধরনের কাজ, কতটাকা আয় করবে এমনকি ভিসার মেয়াদ ঠিক আছে কিনা তা না জেনে যাওয়া ঠিক না। একই সাথে তিনি আরও বলেন, ঋণ করে বিদেশে না গিয়ে দেশে ভালো মানের ছোটখাট ব্যবসা শুরু করেলে বিদেশের থেকে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই আর্থিক উন্নতির জন্য বিদেশের স্বপ্ন না দেখে দেশেই ভালো কিছু করার অনুরোধ করেন রাশেদুল।
সম্পাদনা: ফারিয়া হোসেন

পোস্টটি আপনার বন্ধুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
About Us | Privacy Policy | Term and Condition | Disclaimer |© All rights reserved © 2021 probashirnews.com