সংবাদ শিরোনাম :

বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে আরও ‘বড় বিপদ’

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৭ যত সময় দেখা হয়েছে

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ ছিল ‘পঙ্গপালেরর ঝাঁক।’ তবে মাঝখানে করোনার থাবায় গ্রাস হয়েছিল পঙ্গপালের খবর। কিন্তু কয়েক দিন ধরে আবারও পঙ্গপালের খবর। আফ্রিকা মহাদেশের কৃষিজমিতে তাণ্ডব চালিয়ে এবার বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে পঙ্গপালের দু’টি ঝাঁক। ফলে করোনার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত বহন করছে।

ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে পঙ্গপালের একটি ঝাঁক ভারতে প্রবেশ করেছে। এছাড়া আরেকটি দল এ অঞ্চলের কৃষিজমিতে সরাসরি হানা দিতে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভারতের পাঞ্জাব ও হারিয়ানা রাজ্যে ঢুকে পড়েছে একদল পঙ্গপাল। পঙ্গপালের ঝাঁক ভারত হয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। করোনায় এমনিতেই অর্থনীতি পুরোপুরি বিপর্যস্ত। এর মধ্যে যদি পঙ্গপাল হানা দেয়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। আরেক ভয়াবহ বিপদের অশনিসঙ্কেত দেখা যাচ্ছে পঙ্গপালের হানার খবরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঙ্গপালের খবর বাংলাদেশের জন্যও এক বড় দুঃসংবাদ বয়ে আনছে। কারণ ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিজমিতে যদি পঙ্গপাল হানা দেয়, তাহলে কৃষিজ ফসল একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।

পঙ্গপাল যে ভারতে হানা দেবে, সে ব্যাপারে আগেই বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছিল ভারতকে। তারা পঙ্গপালের সম্ভাব্য আক্রমণের সময় হিসেবে মে মাসকেই ধরে নিয়েছিল। তবে এফএও’র ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ না থাকলেও দ্য হিন্দু আজ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

দ্য হিন্দুর রিপোর্টে বলা হয়েছে, পঙ্গপালের একটি দল ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে ভারতের উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমিতে আছড়ে পড়তে পারে। এরপরই পঙ্গপালের সেই দলের গন্তব্য হতে পারে বাংলাদেশ।

পঙ্গপাল কী?
পঙ্গপাল মূলত এক প্রকার পতঙ্গ। এটি আর্কিডিডি পরিবারে ছোট শিংয়ের বিশেষ প্রজাতি যাদের জীবন চক্রে দল বা ঝাঁক বাঁধার পর্যায় থাকে। এই পতঙ্গগুলো সাধারণত একা থাকে। তবে বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রে জড়ো হয়। তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে সঙ্গলিপ্সু হয়ে পড়ে। পঙ্গপাল ও ঘাস ফড়িংয়ের মধ্যে কোন পার্থক্যগত শ্রেণীবিন্যাস নেই। বিশেষ অবস্থায় তাদের প্রজাতিগুলোর একত্রিত হওয়ার যে স্বতন্ত্র প্রবণতা দেখা যায় সেটাই মূল পার্থক্য।

নতুন ধরনের পঙ্গপালের ১০ লাখ পতঙ্গের একটি ঝাঁক একদিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। আগামী এপ্রিলে এই পঙ্গপাল নতুন করে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এ সময়টিকে পঙ্গপালের বংশবৃদ্ধির সময় বলে বিবেচনা করা হয়।

কতটা ভয়ঙ্কর এই পঙ্গপাল?
১৯৯৩ সালে ব্যাপক আকারে পঙ্গপালের আক্রমণের মুখে পড়ে পাকিস্তান। এই ধাপে ২০১৯ সালের মার্চে পাকিস্তানে প্রথম পঙ্গপালের আক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে এটি সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশের ৯ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি রুপি মূল্যের ফসল ও গাছপালা।

ভারত-পাকিস্তানের বাইরে সৌদি আরবও পঙ্গপালের আক্রমণের মুখে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, পতঙ্গটির আক্রমণ দেশটির কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

পোস্টটি আপনার বন্ধুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
About Us | Privacy Policy | Term and Condition | Disclaimer |© All rights reserved © 2021 probashirnews.com