দ্বিতীয়বার কেউ সংক্রমিত হবে না এমন প্রমাণ নেই

প্রকাশিত: এপ্রি ২০, ২০২০ / ০৬:২৮পূর্বাহ্ণ
দ্বিতীয়বার কেউ সংক্রমিত হবে না এমন প্রমাণ নেই

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ একবার সুস্থ হয়ে ওঠার পর আবার সংক্রমণের শিকার হবেন না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। নভেল করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিভিন্ন দেশ এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ মহামারী বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত কিনা বা কত সময় অ্যান্টিবডি তাকে সুরক্ষা দেবে তা এই পরীক্ষায় পাওয়া যাবে না। যাদের ইতোমধ্যে সংক্রমণ ঘটেছে তারা ফের সংক্রমিত হবেন না- এই ধারণার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ এপিডেমিওলজিস্ট মারিয়া ভ্যান কেরকভ বলেন, অনেক দেশ র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক সেরোলোজিক্যাল টেস্টের দিকে ঝুঁকছে। তারা মনে করছেন এর মধ্য দিয়ে মানুষের এই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বের করতে পারবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, সেরোলজিক্যাল টেস্ট বলে দেবে কোনো

ব্যক্তির দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে বা তিনি পুনরায় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত। এই অ্যান্টিবডি টেস্টের মধ্য দিয়ে সেরোপ্রিভ্যালেন্সের মাত্রা, যা অ্যান্টিবডির মাত্রা বোঝায়, সেটা পরিমাপ করা যাবে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, কোনো ব্যক্তির মধ্যে ওই রোগের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ক অনেক পরীক্ষা পদ্ধতি বের হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

এদিকে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হলে তা বৈষম্যহীনভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গত শনিবার তিনি নিজের টুইটার পেজে লেখেন, কোভিড-১৯ রোগের টিকা তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা উচিত। এর পর কাক্সিক্ষত টিকা আবিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই টিকার দাম রাখতে হবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। টিকা আবিষ্কারের বিষয়টিকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে জনসেবামূলক কাজ হিসেবে দেখতেও বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।