কাতারে মারা গেছেন ৩ জন বাংলাদেশী, আক্রান্ত ৫৫০

প্রকাশিত: এপ্রি ১৯, ২০২০ / ০৫:০৯অপরাহ্ণ
কাতারে মারা গেছেন ৩ জন বাংলাদেশী, আক্রান্ত ৫৫০

পারস্য উপসাগরীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ কাতারে প্রায় সাড়ে পাঁচশ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসাধীন কাতারে এখন পর্যন্ত ৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় কমিটির তথ্য মতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে ৩৪৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলে এখনো পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০৮ জন। এর মধ্যে ৫১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন ৮ জন। গতকাল পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এবং দোহায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ আমাদের সময়কে জানান, গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কাতারে ৫ শতাধিক বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পেয়েছেন তারা। এর পর থেকে এখনো কোনো রিপোর্ট আমাদের জানানো হয়নি। তবে কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাতারে সাড়ে পাঁচশর বেশি বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ৫শ ১০ জনের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কিনা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, থাকতে পারেন কিন্তু নতুন সুস্থ বা অসুস্থ কারও ন্যাশনালিটি এখন আর প্রকাশ করে না কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দোহার বাংলাদেশ কমিউনিটি থেকে তারা দেশটিতে ব্যাপকভিত্তিক বাংলাদেশি আক্রান্তের খবর পাচ্ছিলেন। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। গত সপ্তাহে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ শতাধিক বাংলাদেশি আক্রান্তে কথা জানায় দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় কমিটি। তবে পরবর্তী সময় আরও কিছু লোক আক্রান্তের খবর কমিউনিটি মারফত পেলেও দোহা আনুষ্ঠানিকভাবে না বলা পর্যন্ত তারা সেই সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছেন না।

এদিকে গত শনিবার দোহায় চিকিৎসাধীন তৃতীয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। কাতারে করোনা ভাইরাসে প্রথম বাংলাদেশির মৃত্যু হয় ২৩ মার্চ। ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম দীপক কুমার দেব। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে তার বাড়ি। ৩১ মার্চ কাতারে করোনায় দ্বিতীয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। ৫৮ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশির নাম আবুল কাসেম। তার দেশের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। তৃতীয় মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে কাতারে যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও ড্রাইভার হিসেবে আছেন তারা সংকটে পড়েছেন। সব কিছু বন্ধ থাকায় তারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে এবং অবৈধভাবে থাকার কারণে যেসব বাংলাদেশি জেলে আছেন তাদের ফেরাতে বলেছে কাতার সরকার। এদের সংখ্যা ৯২ জন জানানো হয়েছিল বলে রাষ্ট্রদূত জানান। তিনি বলেন, এখন হয়তো সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে করোনার কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তাদের ফেরানো সম্ভব নয় বলে আমরা জানিয়েছি। কাতার সরকারও বিষয়টি বুঝেছে। ফলে এটি নিয়ে তারা তেমন চাপ দিচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে কী হয় বলা যাচ্ছে না।

কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাতার সরকার করোনা ঠেকাতে শুরু থেকেই তৎপর। সরকারি নির্দেশনা মতে, মিশনের সব ধরনের কনস্যুলার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে মিশন সক্রিয়ভাবে কমিউনিটি এবং লেবার ক্যাম্পে যোগাযোগ রাখছে প্রবাসীদের জরুরি সহায়তা দিতে। কাতার কর্তৃপক্ষ লকডাউন এলাকায় খাবার সাপ্লাই দিচ্ছে। ৩-৪ হাজারের মতো বাংলাদেশি লকডাউন এলাকায় রয়েছেন। তারা বেশ অর্থকষ্টে আছেন। তাদের কাজ নেই, পয়সাও নেই। অবশ্য কাতার চ্যারিটি এবং রেড ক্রিসেন্ট কিছু এলাকায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছাচ্ছে। কাতারে শিল্প এলাকা, মসজিদ, কার্গো এবং স্পেশাল ফ্লাইট ছাড়া সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তবে সব এলাকা লকডাউন নয়। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমরা সহায়তার চেষ্টা করছি। তা ছাড়া কাতার সরকারও সবার জন্য খাদ্য ও মেডিক্যাল সহায়তা দিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।