আমিরাতে মর্গে বাড়ছে বাংলাদেশিদের লাশ

প্রকাশিত: এপ্রি ১৩, ২০২০ / ০৫:৩৪অপরাহ্ণ
আমিরাতে মর্গে বাড়ছে বাংলাদেশিদের লাশ

ওবায়দুল হক মানিক আমিরাত : সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যু ছাড়াও গত দুই সপ্তাহে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। গত শনিবার শারজা আল কাসেমি হাসপাতালে মারা যান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর গোপাল ঘাটা চান গাজী বাড়ির মৃত মতলব সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ এজহার মিয়া। ১০ এপ্রিল দুবাইয়ে একটি হাসপাতালে মারা যান ফটিকছড়ির রোসাংগিরী মুনরবাড়ির মোহাম্মদ আলমগীর। দুবাইয়ে ৯ এপ্রিল রাতে মারা যান মিরসরাই উপজেলার পূর্ব খইয়াছড়া গ্রামের সিরাজ মাস্টার বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন। ৮ এপ্রিল মারা গেছেন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানীয়া ইউনিয়নের মরহুম আবদুল বাসেদ সর্দারের ছেলে মিজান সর্দার। এর আগে দেশটির আল আইন শহরে ৬ এপ্রিল মারা যান হাটহাজারী ইউনিয়নের জোবরা গ্রামের সিকদার পাড়ার মো. জালালের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

রাজধানী আবুধাবিতে ৩ এপ্রিল মারা যান হাটহাজারীর ফতেহপুরের নাছিম উদ্দিন। ৩০ মার্চ দুবাইয়ের শেখ রাশেদ হাসপাতালে মারা গেছেন একই উপজেলার দক্ষিণ গুমাণমর্দ্দনের নুরুল আমিন। এ ছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ এপ্রিল মারা গেছেন ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের সরোয়ার উদ্দিন ও ২৮ মার্চ মারা যান ফটিকছড়ির মাহাবুল আলম নামের এক প্রবাসী।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন কর্মকর্তা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আমিরাতের বেশিরভাগ দপ্তর বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের লাশ পুলিশ মর্গে রেখে দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের চাপে পড়বে। তবে গত এক মাসে পারিবারিক অনুমতির ভিত্তিতে ৬-৭টি লাশ স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ১ মে পর্যন্ত আমিরাত থেকে ঢাকাগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। দুবাইয়ে দায়িত্বরত বিমানের রিজিওনাল ম্যানেজার দিলীপ কুমার চৌধুরী বলেন, ফ্লাইট চালু হলেও লাশ বহনের ব্যাপারে বিমানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের কার্গো ফ্লাইট নেই। প্রবাসীরা চাইলে বর্তমানে স্বজনের মৃতদেহ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের কার্গো ফ্লাইটে পাঠাতে পারেন। সিভিল এভিয়েশনের নিয়ম মেনে তারা কার্গো ফ্লাইট সচল রেখেছে।

আবুধাবি দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মুহাম্মদ আবদুল আলিম মিয়া বলেন, প্রবাসীদের লাশের ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে গেলে দূতাবাস থেকে দ্রুত এনওসি দেওয়া যায়। যদি কোনো লিগ্যাল সমস্যা না থাকে এবং যথাযথ ফ্লাইট পাওয়া যায়, তাহলে লাশ পাঠাতে দূতাবাসের বেশি সময় লাগে না। তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলে স্বাভাবিকভাবে মারা যাওয়া প্রবাসীদের লাশ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের কার্গো ফ্লাইটে পাঠানো সম্ভব। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্বজনকে কার্গো ফ্লাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।