যেসব রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া

দুর্নীতি মামলার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে দাবি করেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব। অন্য কারও সাহায্য ছাড়া খালেদা জিয়া চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তারা।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায় ড্যাব। ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।

ড্যাব নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া এতো অসুস্থ যে তিনি কারও সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া এমনকি শরীরের তীব্র ব্যথার কারণে ভালোভাবে ঘুমাতে পারছেন না। যেকোনো সময় তার শারীরিক পঙ্গুত্ব হয়ে যেতে পারে। তিনি সুচিকিৎসা পেলে এই অবস্থা হতো না। আমরা আশা করি আদালত তাকে তার প্রাপ্য জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে তার পছন্দমত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেবে। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ নীরবে বসে থাকবে না। আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে Highly Active Deforming, Rheamatoid arthritis, Uncontrolled Diabetes Mellitus, Hypertension, Adhesive capsulitis, Recurrent hyponatraemia and Aneamia রোগে ভুগছেন।

ডা. শামীম বলেন, ‘জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। যেমন- Rheumatoid arthritis, Diabeties রোগের কারণে তার Bilateral frozen shoulder, flexion deformities of both elbows, Wrist, Metacarpophalangeal (MCP) joint and Proxima interphalangeal (PIP) joint, Cervical spondylosis, Lumber spndylosis with Radiculopathy, Bilateral Carpal Tunnel Syndrome, Sjogren’s Syndrome.’

তিনি বলেন, ‘এসব জটিলতার কারণে তার হাত এবং পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টসহ শরীরের বিবিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে। এতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। ফলে জয়েন্টগুলো Stiff (শক্ত) এবং deformed (বাঁকা) হতে চলেছে; যা কিনা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে। এই জটিলতার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্তও খেতে পারছেন না।’

ডা. শামীম জানান, সোমবার (২ ডিসেম্বর) চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার ওজন মাপার জন্য বার বার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তীব্র ব্যাথায় তিনি বিছানা থেকে নামতে পারেননি। ব্যাথার কারণে তিনি ঘুমাতেও পারছেন না। ভয়ংকর ব্যাপার হলো ওনার ডান পায়ে একটি গুটি উঠেছে, যাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় Rheumatic nodule বলে; যা highly tender বা স্পর্শ করা মাত্রই তীব্র ব্যাথা অনুভুত হয়। যেটি পরবর্তী সময়ে vasculitis কিংবা gangrene এ পরিণত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে বেগম জিয়া Rheumatoid Arthritis এর জন্য Methotrexate নামক একটি ওষুধ খাচ্ছেন। যা লিভার, কিডনিসহ রক্তের সব সেল সমূহ কমিয়ে দিয়ে pancytopenia নামক ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। ম্যাডামের ডায়াবেটিস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ, একটা ছোট বদ্ধ ঘরে তিনি হাঁটা-চলার সুযোগ পাচ্ছেন না।’

ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম আরও জানান, Sjogren syndrome কারণে চোখ শুকিয়ে যায়। তাই কিছুক্ষণ পরপর তাকে artificial tear দিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজ পায়ে হেঁটে জেলখানায় প্রবেশ করেন। হেঁটে দোতলায় তার নির্ধারিত রুমে যান। এমনকি জেলখানা থেকে প্রথমবার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন তখন গাড়ি থেকে নেমে নিজে লিফ্ট পর্যন্ত হেঁটে যান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি কীভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি ধীরে ধীরে এই অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। তিনি সুচিকিৎসা পেলে এই অবস্থা হতো না।’

ডা. শামীম বলেন, ‘আমরা জানি যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বাস্থ্য হলো- কোনো ব্যাক্তির Physical, Mental, Spiritual wellbeing. কিন্তু উপরোক্ত তিনটি উপাদানের কোনোটিই বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রতিপালিত হচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মো. আবদুস সেলিম, ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ডা. মাসুম বিল্লাহ, ডা. গালিব প্রমুখ।