বাংলাদেশী শ্রমিক নিতে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করছে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী শ্রমিক নেয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে মালয়েশিয়া। নিয়োগকারী এজেন্সিগুলো তাদের জোরপূর্বক শ্রমে লাগাচ্ছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক বছর আগে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো মালয়েশিয়া।

অধিকার কর্মীরা আশাবাদী যে, যে চুক্তিটি নিয়ে দর কষাকষি হচ্ছে, সেটি একচেটিয়া ‘সিন্ডিকেট’কে ভেঙ্গে দেবে। কিন্তু একই সাথে তারা এ উদ্বেগ জানিয়েছে যে, অভিবাসী কর্মীদেরকেই এ জন্য মূল্য দিতে হবে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয়। এই মর্মে বহু রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে, বাংলাদেশের শত শত নিয়োগ সংস্থার মধ্যে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা অভিবাসীদের চাকরি দেয়ার জন্য ৫০০০ ডলার পর্যন্ত নিয়েছে। এ কারণে শ্রমিকরা কার্যত এই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কাছে ঋণগ্রস্ত ও তাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে।

দুই দেশ ৬ নভেম্বর একটি যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, তারা ২০১৬ সালের একটি সমঝোতা স্মারক সংশোধন করবে এবং এতে চলতি মাসের শেষ দিকে শ্রমিক আমদানি আবার শুরু করবে।

তবে মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্সেস মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল আমির বিন ওমর বলেছেন, শ্রমিক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ব্যাপারে রোববার আরেকটি যৌথ বৈঠক হবে। তিনি বলেন মঙ্গলবার চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা ছিল কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সেটা স্থগিত করা হয়েছে।

ওমর বলেন যে, মন্ত্রণালয় চায় যাতে চুক্তিটি স্বাক্ষরের আগেই পূর্ণ মালয়েশিয়ান মন্ত্রিসভা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পরে নয়। কিন্তু এরপরও ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ওমর বলেন, “তারা প্রায় একমত হয়েছে, ৯০ শতাংশ বিষয়ে। সামান্য কিছু বাকি আছে। মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন নিলে ভালো হবে, যদিও জানি না সেটা কখন হবে। যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো”।

তিনি আরও বলেন, “কে পরিশোধ করবে, চাকরিদাতা না কি চাকুরে, এর পরিমাণ কত হবে, এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন”।

ওমর বলেন অভিবাসী শ্রমিকদেরকে কিছু মূল্য পরিশোধ না করে উপায় নেই, যেমন তাদের আগমণী ব্যয়। তবে তিনি এটাও বলেন যে, মালয়েশিয়া এই সব শ্রমিকদের আর্থিক বোঝা যতটা পারা যায় গ্রহণ করতে চায় এবং আরও বেশি এজেন্সিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

তিনি বলেন, “আমরা বাজারে এটার দরজা খোলা রাখতে চাই, কিন্তু সেটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের সাথে আমাদের আলোচনার উপর”।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ টেলিফোনে ভিওএ’র সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন এবং ইমেইলে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি জবাব দেননি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই তাদের অভিবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর নির্ভর করে। আবার মালয়েশিয়াও তাদের কারখানা ও চাষাবাদের জন্য বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকদের উপর নির্ভর করে।

মালয়েশিয়ায় ১.৭ মিলিয়ন অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে মালয়েশিয়া, কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বলেছে, অবৈধ শ্রমিকসহ এই সংখ্যা ৪ মিলিয়নের কাছাকাছি – যেটা মালয়েশিয়ার মোট কর্মশক্তির এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশী শ্রমিকদের সংখ্যা এখানে দুই থেকে চার লাখের মতো।