তবে কি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এন্ড্রু কিশোর

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে চিকিৎসার জন্য দশ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ শিল্পীর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। মুহূর্তেই এমন খবর ও ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশংসা নয়, ওঠে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ঝড়।

এমন সমালোচনার মধ্যেই সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার একটি ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এন্ড্রু কিশোর। বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ও চিকিৎসা সমন্বয়ক কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর।

এদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে গুজব ছড়িয়েছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন গুণী এই শিল্পী। হাসপাতালের বেডে শায়িত এন্ড্রু কিশোরের একটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায় গুরুতর নন, ভালো আছেন এন্ড্রু কিশোর। হাসপাতালের চিকিৎসকরা অবজারভেশনে রেখেছেন তাকে।

দেশ থেকে সব সময় এন্ড্রু কিশোরের খোঁজ-খবর রাখছেন তার শিষ্য মোমিন বিশ্বাস। এদিকে গুণী এই শিল্পীর ভক্তরাও জানতে চাইছেন তার বর্তমান অবস্থা। মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‌‘দাদা (এন্ড্রু কিশোর) ২ দিন হলো সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ২/৩ ধরেই সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা ব্লাড পরীক্ষাসহ তার শরীরের বিভিন্ন অর্গান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন।

তার এড্রিনাল গ্লান্ট (যেখান থেকে হরমন প্রডিউজ হয়) একটু বড় হয়ে গেছে যার ফলে কিশোর দা’র শরীরের ওজন কমাসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার বায়োফসি করা হয়েছে, আরও কয়েকদিন দাদা হাসপাতালেই ভর্তি থাকবেন। চিকিৎসকরা দাদাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এই অসুস্থতার খবর পেয়েই এন্ড্রু কিশোরকে ডেকে ১০ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন। যেখানে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাওয়া কিংবা পাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু এই খবর প্রকাশ হওয়ার পরে নিন্দুকেরা নিন্দার ঝড় তোলেন। সেই ঝড় থেমেছে। কারণ এরই মধ্যে সবাই জেনেছেন এন্ড্রু কিশোর চেয়ে নেননি এই টাকা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টাকা কোনো অনুদান নয়, উপহার ছিল।