পরিবেশ রক্ষায় ম’রা মানুষের মাংস খাওয়ার পরামর্শ

জলবায়ু পবির্তন রোধে বিশ্বজুড়ে ম’রা মানুষের মাংস খেয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন সুইডিশ গবেষক মগনুস সোলান্ড। স্টকহোম স্কুল অব ইকোনোমিক্সের এই গবেষকের দাবি, মানুষ মারা গেলে তার শরীর থেকে মাংস ছাড়িয়ে খেয়ে ফেললে জলবায়ু পরিবর্তন কমানো যাবে।
সম্প্রতি সুইডেনের একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাতকারে মগনুস সোলান্ড এমন দাবি করেছেন বলে সোমবার খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

বিজ্ঞানীদের এই দাওয়াই মেনে চললে একদিকে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সাশ্রয় হবে৷ আবার অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো তথা পরিবেশ বিপর্যয়ের মাত্রা হ্রাসেও সহায়ক হবে৷

বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করলেন ৯০ পৃষ্ঠার এক গবেষণা লব্ধ পুস্তক৷ নাম ‘এ মিট ইটার্স গাইড টু ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেল্থ’৷ এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে খাবার তালিকায় ছোট্ট পরিবর্তন আনলেই তা পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে৷

আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু গ্যাস এবং তেল জাতীয় জ্বালানির দহনই এককভাবে দায়ী নয়৷ বরং এর পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে প্রাণীর ঢেকুরে মিথেন গ্যাসের নির্গমন থেকে নানা প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের জীবনচক্রও৷ যেগুলো আবার বিশ্বমানবের খাবার টেবিলেও নিয়মিত হাজির থাকে৷

ওয়াশিংটনে কর্মরত এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ – ইডাব্লিউজি’এর ঊর্ধ্বতন বিশ্লেষক ক্যারি হ্যামারশ্ল্যাগ বলেন, আমাদের গবেষণায় আমরা গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের বিবেচনায় প্রতিটি খাবারের জন্ম থেকে বিনাশ অবধি কার্বন চক্র বিশ্লেষণ করেছি৷

এমনকি সেগুলো খামারে থাকা অবস্থায় এবং তারপরের ধাপগুলোও বিবেচনা করা হয়েছে৷ ইডাব্লিউজি যৌথভাবে ওরেগন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রিনমেট্রিক্স কর্পোরেশন পোর্টল্যান্ডের সাথে এই গবেষণার কাজ করেছে৷

এর আওতায় প্রাণীকূলের জন্য ব্যবহৃত খাবার, সেগুলোতে প্রয়োগ করা পোকানিধন বিষ, সার, পশুপালন, বিভিন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন এবং রান্নার বিভিন্ন ধাপগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে৷

এমনকি খাবার পর অবশিষ্টাংশ থেকে নির্গত গ্যাস ও সেগুলোর ব্যবস্থাপনার ধাপগুলোও যথাযথভাবে হিসাবে আনা হয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, খামারে চাষ করা মাছ, শস্য, দুগ্ধজাত খাবার এবং শাক-সব্জির উৎপাদন চক্রকেও আনা হয়েছে এই গবেষণার মধ্যে৷