‘সেবায় বিশ্বখ্যাত দুবাই পুলিশকে হার মানালো বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ’

প্রকাশিত: মে ৩, ২০১৯ / ০৬:৪৯অপরাহ্ণ
‘সেবায় বিশ্বখ্যাত দুবাই পুলিশকে হার মানালো বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ’

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা হাসনাত আরা হাসান। প্রায় ৩৩ বছর ধরে পরিবারসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকেন বাংলাদেশি এই নারী। সম্প্রতি বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহায়তায় মুগ্ধ হয়ে এই নারী মন্তব্য করেন, সেবার জন্য বিশ্বে বিখ্যাত দুবাই পুলিশ, কিন্তু দুবাই পুলিশের সেবাকে হার মানিয়েছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০১২৮ ফ্লাইটযোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাসিমুখে স্বদেশে ফেরেন। কিন্তু বিমানবন্দরের টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পরই সেই হাসি ম্লান হয়ে যায়।

টার্মিনাল থেকে বের হতেই তার হাতব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে যায় এক নারী চোর। ব্যাগে ছিল মূল্যবান স্বর্ণের দু’টি চুড়ি ও চারটি কানের দুলসহ আরও কিছু জিনিস। তখনই মন ভেঙে যায় প্রবাসী নারী হাসনাত আরা হাসানের। স্বর্ণ পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েইছিলেন তিনি। তবু বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহায়তা নেন হাসান।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ কার্যালয়ে অভিযোগ করে বাসায় চলে যান হাসনাত আরা হাসান। অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার দেখে শনাক্ত করা হয় চোরকে। পরবর্তীতে সেই নারী চোরকে বিমানবন্দরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্বীকারোক্তি দিয়ে সেই মালামাল ফিরিয়ে দিলে মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) প্রবাসী হাসনাত আরা হাসানকে মালামাল বুঝিয়ে দেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। তখনই প্রবাসী নারী হাসানের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। প্রায় দেড় লাখ টাকার স্বর্ণ পেয়ে ধন্যবাদ জানান পুলিশকে।

হাসনাত আরা হাসান বলেন, সেবা দিয়ে অন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। তারা এত দ্রুত আমার ব্যাগ উদ্ধার করে দিয়েছে, আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এটা মিরাকল। আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। সেবা দিয়ে প্রবাসী যাত্রীদের মন জয় করেছে তারা।

বিমানবন্দর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, একসময় বিমানবন্দরে মালামাল হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষই তা ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই। এখন আমরা এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফলে দেখা যায় বেশির ভাগ মালামালই ফিরে পাওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় খুব দ্রুত প্রবাসীদের হারানো মালামাল উদ্ধার করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হলেও আমরা যার মালামাল তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।