হঠাৎ কাতারে কমতে শুরু করেছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা

প্রকাশিত: মে ২, ২০১৯ / ০১:১২অপরাহ্ণ
হঠাৎ কাতারে কমতে শুরু করেছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা


চলতি বছর কাতারে সবচেয়ে কম কর্মী এসেছেন গত মাসে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণলায়ের অধীন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কাতারে এসেছেন মাত্র চার হাজার ৯৩৫ জন।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

এর আগের দু মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কাতারে এসেছেন যথাক্রমে সাত হাজার ৮৭১ জন ও ১০ হাজার ৭৪১ জন। ফলে এই তিন মাসে কাতারে আসা বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪৭ জন।

তবে এখন পর্যন্ত এই তিন মাসে কাতারে আগত বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা গত বছরের প্রথম তিন মাসে আগত কর্মীসংখ্যার চেয়ে বেশি। গত বছরের প্রথম তিন মাসে কাতারে এসেছিলেন ২১ হাজার ৩৪৯ জন বাংলাদেশি কর্মী, যা চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আগত কর্মীসংখ্যার চেয়ে দু হাজার ১৯৮ জন কম।

কাতারে ২০১৮ সালে পুরো বছরে মোট এসেছিলেন ৭৬ হাজার ৫৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী। বর্তমানে সব মিলিয়ে কাতারে কর্মরত রয়েছেন প্রায় সোয়া চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি।

কাতারে বাংলাদেশি কর্মীর আগমন মার্চ মাসে কমে গেলেও বেড়েছে সৌদিআরব ও ওমানে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা। স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে আরব আমিরাত ও কুয়েতগামী কর্মীসংখ্যায়। বিএমইটির প্রকাশিত পরিসংখ্যনে দেখা গেছে, মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে সৌদিআরবে গেছেন ৩১ হাজার ৪১২ জন, যা ফেব্রুয়ারিতে যাওয়া ২৪ হাজার ৬৫৬ জনের চেয়ে ছয় হাজার ৭৫৬ জন বেশি।

ওমানে মার্চ মাসে গেছেন ছয় হাজার ৫৪৩ জন, যা ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে যাওয়া পাঁচ হাজার ৩৯৩ জনের চেয়ে এক হাজার ১৫০ জন বেশি। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলো মধ্যে মার্চ মাসে আরব আমিরাতে গেছেন ২৬৮ জন, কুয়েতে গেছেন এক হাজার ১৩৯ জন এবং বাহরাইনে মাত্র একজন।

বাহরাইনে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো বাংলাদেশি কর্মী যাননি। কাতারে মার্চ মাসে বাংলাদেশি কর্মী আগমনের হার এভাবে কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর ড, মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি কাতার ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সেখানে নতুন নিয়মে কাতারে আসতে ইচ্ছুক কর্মীদের আগমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আমি মনে করি, সেখানকার প্রক্রিয়াগত কিছু সীমাবদ্ধতা হয়তো এখনো রয়ে গেছে। সেজন্য মার্চ মাসে কাতারে বাংলাদেশি কর্মীদের আগমন হার কিছুটা কমেছে।

এর সঙ্গে কাতারে স্থানীয় চাকরির বাজার কিছুটা হয়তো সংকুচিত হয়েছে বলা যেতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে শ্রম কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাতারে এমনিতেই অদক্ষ জনশক্তির চাহিদা কমে আসছে। বরং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে কাতারে বাংলাদেশি কর্মীদের আসার হারে।

আমরা তাই কাতারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তি আমদানি ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। তবে কাতারের শ্রমবাজার এখনো বাংলাদেশের জন্য আগের মতোই উন্মুক্ত রয়েছে দাবি করে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের চেয়ে কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছেন। ফলে এই শ্রমবাজারে এখন দক্ষ জনশক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে তা সুদূরপ্রসারী ফল বয়ে আনবে