ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে ভাবির সঙ্গে পরকীয়া, নির্মম পরিণতি!


দীর্ঘদিন ধরেই স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না কারখানা শ্রমিক হাসনা আক্তারের। স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে তার সংসার ছেড়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। আর ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন কমর উদ্দিন (২৫)।

ওই সম্পর্কের একপর্যায়ে হাসনা আক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য দেবরকে চাপ দেন। আর এতেই ভাবিকে হত্যা করেন দেবর।

গত রোববার রাতে শ্বাসরোধ করে হাসনাকে খুন করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখেন কমর উদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়।

গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে মুঠোফোনের সূত্র ধরে রাতেই কমর উদ্দিনকে একই উপজেলার পেলাইদ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানার উপপরির্শক (এসআই) রাজিব কুমার সাহা।

গ্রেপ্তার কমর উদ্দিন শ্রীপুরের জাম্বুরীর টেক গ্রামের বাসিন্দা। আর নিহত কারখানা শ্রমিক হাসনা আক্তার কমর উদ্দিনের বড় ভাই কফিল উদ্দিনের স্ত্রী। হাসনা-কফিল উদ্দিন দম্পতির ছয় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল রাতেই হাসনার বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসআই রাজিব কুমার সাহা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শ্রীপুরের গাড়ারন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশ থেকে গতকাল সকালে নিহত কারখানা শ্রমিক হাসনা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাশের সঙ্গে একটি মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়। পরে মুঠোফোনের কথাবার্তার সূত্র ধরে সোমবার রাত ১২টার দিকে মোবাইল ট্র্যাকিং করে পেলাইদ এলাকা থেকে কমর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কমর উদ্দিনের বরাত দিয়ে রাজিব কুমার সাহা আরও জানান, দীর্ঘ আট বছর আগে কমর উদ্দিনের বড় ভাই কফিল উদ্দিনের সঙ্গে হাসনা আক্তারের বিয়ে হয়। তার ভাই একজন রিকশাচালক। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকেই হাসনা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা হচ্ছিল না। এর জের ধরেই স্বামীর বাড়ি ছেড়ে হাসনা আক্তার দুই বছর আগে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামে এক বাসা ভাড়া নিয়ে স্থানীয় পারটেক্স গ্রুপের কারখানায় অপারেটরের কাজ নেন। আর হাসনা আক্তারের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে থাকত।

এ সময় বড় ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে ভাবির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন কমর উদ্দিন। পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে শারীরিক সম্পর্ক।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই হাসনা আক্তারের স্বামী কফিল উদ্দিন তার স্ত্রীকে নতুন করে সংসার শুরু করার জন্য নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। আর হাসনা মরিয়া হয়ে উঠেন তার দেবরকে বিয়ে করার জন্য।

ঘটনার দিন রোববার বিকেল থেকেই হাসনা আক্তার দেবর কমর উদ্দিনকে দেখা করার জন্য অনুনয়-বিননয় করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ মুঠোফোনে কথাবার্তাও হয়। পরে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাড়ারণ এলাকায় একটি সেতুর পাশে দেখা করেন। এ সময় হাসনা আক্তার ওই রাতেই তাকে বিয়ে করার জন্য দেবরকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কমর উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে হাসনা আক্তারের গলায় থাকা ওড়না দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেন কমর উদ্দিন। পরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য কমর তার ভাবির মরদেহ ঝোপের আড়ালে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখেন।