ভাইবোনের আবেগঘন সাক্ষাৎ

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট ব্রুনাইয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের মাটিতে পা দিলেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রীলংকায় হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান। ৮ বছরের ছোট্ট জায়ান ছিল বেশ আদরের। পরিবারের সবাইকে মাতিয়ে রাখত সে। শেখ সেলিমের নাতি জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বেশ প্রিয় ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই দাদু বলে জড়িয়ে ধরত জায়ান।

ব্রুনাই সফর শেষে শেখ সেলিম গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ সেলিমকে তখন জড়িয়ে ধরেন। দুজনের চোখ জুড়েই ছিলো কান্না। কেউ কাউকে থামিয়ে রাখতে পারছিলেন না।

ব্রুনাই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হৃদ্যতাপূর্ণ এ বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং এলএনজি সরবরাহ সংক্রান্ত ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়াও তিনদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের সুলতান এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাজপরিবারের প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রাসাদের করিডোরে উপস্থিত হন সুলতান হাসানাল বলকিয়া। তিনি বাংলাদেশ-ব্রুনাই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু কর্মসূচিতে যোগ দেন।

তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান বলকিয়া নির্মিত জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন করেন। এছাড়াও আজ সকালে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশ মিশনের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ মাসের মধ্যে এ ভবন নির্মাণ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী ভবনটি উদ্বোধনের জন্য আবারও ব্রুনাই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।