অবশেষে জানা গেলো যে কারণে মালয়েশিয়া কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশী যুবকে নিয়ে বিশ্বে তোলপাড়

মালয়েশিয়ায় এক প্রবাসী বাংলাদেশী নির্মাণ শ্রমিকের ছবি নিয়ে ইন্টারনেটে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ওই শ্রমিকের একটি ছবির ওপর। তার বিস্ময়কর চাহনি, মুখের গড়ন আর চোখের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাকে নিয়ে একটি সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন।

গত বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ এই ছবিটি প্রথম পোস্ট করেন আবেদেন মুং। এরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তা রিটুইট হয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ বার। লাইক করেছেন ৬৮ হাজার ৭০০ মানুষ। আবেদেন মুং এই ছবিটি জালান আইপোর কাছে এমআরটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থেকে ধারণ করেছিলেন বলে তার টুইট বার্তায় জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আবেদেন মুং বলেছেন, আমি একটি ভ্লগে কাজ করছিলাম। ঠিক তখনই ওই তাকে দেখতে পাই। কিন্তু ওই সময় আমি অন্য একটি বিষয় ক্যামেরাবন্দি করছিলাম বলে তার ছবি নেয়ার সুযোগ পাইনি। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে সেই একই স্থানে পেয়ে গেলাম। ফলে দ্রুততার সঙ্গে আমার আইফোন এক্সএস ম্যাক্স থাকা সত্ত্বেও দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত করে নিলাম পিক্সেল ২ এক্সএল। কারণ, ওই ফোনে আমি তখন টেক্সট ম্যাসেজ লিখছিলাম।ঐ ফটোগ্রাফার জানতেন যে এটা খুবই ভালো একটা শর্ট হতে যাচ্ছে। সেখানকার আলো ছবিটি তোলার জন্য খুবই চমৎকার ছিল। আর তার পোশাকও ভাল ছিল।মোট কথা, তার তার চোখ ছিল ফটোগ্রাফির জন্য সেরা চোখ।

বাংলাদেশী ওই প্রবাসী সম্পর্কে তিনি টুইটে আরো লিখেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক। বাস্তবেই তিনি জানেন না কোনদিকে তাকাতে হবে। এটা এ জন্য হতে পারে যে, আমি ফোনে তার ছবি তুলছিলাম। আমি অনেকবার তাকে ক্যামেরার দিকে আনার চেষ্টা করলাম এবং বেশ কিছু ছবি তুললাম। কিন্তু সেগুলো যথেষ্ট ভাল ছিল না। এমনটা ততক্ষণই চলতেই থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সত্যিকার অর্থে মোবাইলের ক্যামেরার দিকে না তাকিয়েছেন। তারপরই চূড়ান্তভাবে আমি তার ছবি তোলতে পেরেছি। এটা কি চমৎকার নয়?

আবেদেন মুং-এর এমন টুইটের জবাবে অনেকে বলেছেন, প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিক ওই যুবকের নজরকাড়া চাহনি। দৃঢ়চেতা মুখমণ্ডল তার। চিমপেং নামে একজন টুইটের জবাবে লিখেছেন, তার চোখ বিস্ময়কর। মিসি জোর-এল নামে একজন লিখেছেন, ওর মুখটা খুবই সুন্দর। তার ‘বোন স্ট্রাকচার’ বা মুখের গড়ন বিস্ময়কর।

ড্রিউওয়েহ বলেছেন, এই ছটিটি ১৯৮৪ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদে ব্যবহৃত শরবত গুলা’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই ছবিটি ধারণ করেছিলেন সাংবাদিক স্টিভ ম্যাকারি। উল্লেখ্য, শরবত গুলা একজন আফগান মেয়ে। তার চোখ সবুজ। মাথায় ছিল লাল স্কার্ফ। তাকিয়ে ছিলেন ক্যামেরার দিকে।

তবে ওই বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকের নাম জানা যায় নি। তবে তাকে অনেকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবিগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার চাহনির মধ্যে রয়েছে এক দৃঢ়চেতা মনোবল। তার চোখ রূপালি।