যেভাবে কাতার প্রথম তেলের খনি পেল অবশেষে জানা গেলো সে রহস্য!

প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০১৯ / ১১:১৫পূর্বাহ্ণ
যেভাবে কাতার প্রথম তেলের খনি পেল অবশেষে জানা গেলো সে রহস্য!

কাতারে তেলখনি আবিষ্কৃত হওয়ার সময়টি কাতার ও এই অঞ্চলের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই তেলখনি আবিষ্কারের পর থেকে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করে তৎকালীন শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্রিটেনসহ অন্যান্য রাষ্ট্র।কাতারে তেলখনি আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় ১৯৩৫ সালে প্রতমবারের মতো শেখ আব্দুল্লাহ বিন জাসেম একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল অ্যাংলো-ইরানি তেল কোম্পানির সঙ্গে। চুক্তিস্বাক্ষরের প্রায় চার বছর পর তেল মজুদের প্রথম নিদর্শন পাওয়ায় কাতারের পশ্চিমপ্রান্তে এক নম্বর কূপের কাছে।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

যদিও ১৯৩৯ সালের ১১ অক্টোবর বাহরাইন থেকে তৎকালীন ব্রিটেনের রাজনৈতিক দূত একটি পত্র লিখেন তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে, যাতে লেখা ছিল, ‘যিকরিত অঞ্চলের কাছাকাছি একটি পরীক্ষামূলক কূপে কাতার তেল উন্নয়ন কোম্পানি সম্প্রতি তেল মজুদের ব্যাপারে আলামত পেয়েছে। পর্যন্ত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।’এরপর ১৯৪০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাহরাইন থেকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক দূত কাতারের শাসক শেক আব্দুল্লাহর কাছে একটি পত্র পাঠান, যেখানে তিনি কাতারে তেলখনি আবিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এতে তিনি লিখেন, আমি আশা করি, এই অনুসন্ধানের ফলে যেন প্রতীয়মান হয় যে কাতার ভবিষ্যতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের মজুদ খুঁজে পাবে।

কাতারের ইতিহাস ও অতীত নিয়ে গবেষণা করেন, এমন গবেষকদের মতে, কাতারে প্রথমবারের মতো তেলের মজুদের আলামত পাওয়া যায় ১৯৩৮ সালে। সেসময় প্রায় দু হাজার ৫০০ ফুট নিচে এই আলামত আবিষ্কৃত হয়।এর পর থেকে কাতারের অর্থনীতিতে পালাবদলের হাওয়া লাগে। ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয় কাতারের জনজীবনে। সৃষ্টি হয় কর্মসংস্থান, শিক্ষাদীক্ষায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ। উন্নত হতে থাকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সব খাত।কাতারের আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় তেলকূপ দুখানে অবস্থিত। এটি ১৯৪০ সালের শুরুতে আবিষ্কৃত হয়। এটি ছাড়া কাতারে আরও অনেকগুলো তেলকূপ রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রতিদিন কয়েকশ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে কাতার।

তেলের পাশাপাশি কাতারের রয়েছে প্রাকৃতিক তরল গ্যাসের সুবিশাল সম্ভার। এই খাত থেকেও কাতার প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকে। বর্তমানে কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।কাতার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই এলএনজি রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশও সম্প্রতি যোগ হয়েছে এই তালিকায়। কাতার থেকে ইতিমধ্যে কয়েকটি এলএনজিবাহী জাহাজ পৌঁছেছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে।কাতারের তেলখাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কাতার পেট্রোলিয়াম। ১৯৭৪ সালে এটি গঠিত হয়। তেল ও গ্যাস উত্তোলন থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে যাবতীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে কাতার পেট্রোলিয়াম।১১ হাজার ৪৩৭ বর্গকিলোমিটারের দেশ কাতার। তেল ও গ্যাসের খনিতে সমৃদ্ধ এই দেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। এই বিপুল সম্পদ কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তাসহ সার্বিকখাতে জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে কাতার।