সাব্বিরের ১৫৮ রান


সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছিল না বাংলাদেশের হার্ডহিটার খ্যাত সাব্বির রহমান রুম্মানের। চারদিক থেকে সমালোচনা ধেয়ে আসছিল। ব্যাটেও রান আসছিল না।এরপর নয়া সমস্যা এসে দাঁড়ালো সাব্বিরের সামনে।

ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হওয়া সাব্বিরের শাস্তি কমিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরের দলে নেয়া হয়। এ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। নিজেদের মতো করে ‘ব্যাডবয়’ সাব্বির রহমানকে ধুয়ে দিয়েছেন সমালোচকরা। শুধু তাই নয়, তাকে ফেরানো নিয়ে অধিনায়ক-নির্বাচকদের সামলোচনার তিরে বিদ্ধ হতে হয়। গণমাধ্যমে কথা বলতে হয় খোদ বিসিবি বসকেও।

মূলত তাকে দলের নেয়ার একটাই কারণ। তার শক্তির জায়গাটি ‘পাওয়ার’। সাব্বিরের কাছে প্রত্যাশা থাকে, ছয়-সাতে নেমে একটা ঝড় তুলে দলের স্কোরটা ভালো জায়গায় পৌঁছে দেবেন। আজ একটু ব্যতিক্রম হল। দলের স্কোর ভালো জায়গায় পৌঁছে দেওয়া নয়, চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৩৩১ রানের লক্ষ্য পেরোনো অসম্ভব বলে হারের ব্যবধান কমাতেই খেলতে হলো তাকে। আর এতে লম্বা এক অপেক্ষার অবসান হলো সাব্বিরের।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া সাব্বির অবশেষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। তিন অঙ্ক ছুঁতে লেগে গেল ১০৮ ম্যাচ। সেঞ্চুরিটাও পেলেন মোক্ষম সময়ে।ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে এটাই তার প্রথম সেঞ্চুরি।

গত কিছুদিনে জেঁকে বসা বিষম চাপ আর বিদ্ধ হওয়া সমালোচনার তির অবশেষে সরিয়ে ফেললেন সাব্বির।যেটা তার উদযাপনে বুঝা যায়। সেঞ্চুরির পর শূন্যে লাফিয়ে ইশারায় এমনটাই বুঝালেন—‘আমার ব্যাট কথা বলতে জানে’!

এরপর পরম কাঙ্ক্ষিত স্কোর পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত সাব্বির। এজন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি তিনি।

যে উদ্দেশ্যে সাব্বিরকে দলে নেয়া তার যথাযথ ফল দিয়েছন সাব্বির। তিন ম্যা সাব্বিরের সংগ্রহ ১৫৮ রান। প্রথম ম্যাচে ১৩, দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ এবং শেষ ম্যাচে ১০২ রানের নান্দনিক ইনিংস।তবে টপ অর্ডারদের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ।

দেশ ছাড়ার পূর্বে সাব্বির সবাইকে কথা দিয়েছিলেন তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন।হ্যাঁ, সাব্বির কথা রেখেছেন। ‘অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। হতে পারে আমার দ্বিতীয় সুযোগ। চেষ্টা করব আগের সাব্বির রূপে ফিরে আসার জন্য। জবাব দেয়া বড় বিষয় না। আমি ভালো খেলার চেষ্টা করব। কোনো পজিশন না। দল যখন যেটা চাইবে সেটা খেলার চেষ্টা করব।’