কাতারের প্রেসিডেন্ট মসজিদে জুমায় খুতবা দিলেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুল


কাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে প্রতি জুমায় খুতবা দিচ্ছেন একজন বাংলাদেশি খতিব। একজন বাংলাদেশি হয়েও নিজের অসাধারণ আরবি বলা ও উপস্থাপনার দক্ষতায় কাতার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খুৎবা প্রদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন হাফেজ কারী মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

এর আগে ২০০৪ সালে এই দুবাইতেই হলি কুরআন এ্যাওয়ার্ড এ রানার্সআপ হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন। প্রায় ৬৫’র মতো দেশের তিনি প্রথম হন। হাফেজ সাইফুল ইসলাম দেশে দাওরা শেষ করে একই সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে কাতার ইউনিভার্সিটির স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। চারবছর সেখানেই অনার্স সম্পন্ন করেন।

আর সম্প্রতি তিনি কাতার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খুৎবা প্রদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন নিজের অসাধারণ আরবি বলা ও উপস্থাপনার দক্ষতায়।

কাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে হাফেস মাওলানা সাইফুল ইসলাম জানান, কাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্ব তিনি রাজপরিবারে কিছু সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাননি। বরং আল্লাহর মেহেরবানি ও করুণা এবং নিজের যোগ্যতায় পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর মসজিদটিতে প্রদানকৃত তার খুতবাগুলো রাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের মন ছুঁয়ে যায় বেশ। এরপর ২০১৭ সালের রমজানে হঠাৎ ফোন করে তাকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে জুমার খুতবা দিতে হবে। সেখানে কাতারের প্রেসিডেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।

ফোন পাওয়ার পর বেশ চিন্তায় পড়ে যান তিনি। মনে দ্বিধাদ্বন্ধ ও অজানা শঙ্কার ডালপালা গজাতে শুরু করে। কিন্তু জুমার দিন আগেভাগে কর্তৃপক্ষ গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পরে তার মনে আশার সঞ্চার হয়। আল্লাহর কাছে দোয়া-প্রার্থনা করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো খুতবা দিয়ে রাজপরিবারের মুসল্লি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মন জয় করেন।

হাফেজ সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরের নয়নপুর পৌরসভা এলাকায়। বাবার নাম ডা. ওয়ালিউর রহমান। স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি মাদরাসায় ভর্তি হন। দেশের খ্যাতিমান কোরআনের হাফেজ মাওলানা আবদুল হকের কাছে হিফজ করেন। ২০১১ সালে দাওরা হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদরাসায় থেকে। ২০১২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে কাতার ইউনিভার্সিটিতে গমন করেন। ২০১৭ সালে সেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স সম্পন্ন করেন।

হাফেজ কারি সাইফুল ইসলামের দেশ-বিদেশে সাফল্য ও অর্জন রয়েছে ২০০৪ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান, ২০১০ সালে জর্ডানে আন্তর্জাতিক তাফসিরুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান, ২০০৪ সালে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৪র্থ স্থান, ২০০৯ সালে ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৪র্থ স্থান, ২০০৫ সালে আবারও জর্ডানে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন।