যে দুইটি বিশেষ কারণে দলে দলে দেশে ফিরছেন প্রবাসী শ্রমিকরা

নির্যাতন ও প্রতারণা এই দুইটি বিশেষ কারণে প্রতিদিন দলে দলে দেশে ফিরছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডানসহ কয়েকটি দেশ থেকে ফিরছেন প্রবাসী শ্রমিকরা৷ এই ফেরার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে৷



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়শ’ জন শ্রমিক ফিরছেন৷ কোনো কোনো দিন এই ফিরে আসা নারী ও পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা দুইশ’ ছাড়িয়ে যায়৷ সৌদি শ্রমমন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে দেখা যায়, সে দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার ১২ টি সেক্টরকে ‘সৌদিকরণ’ করার ঘোষণা দিয়েছে৷ এর ফলে গত ১৫ মাসে ৭ লাখ ২০০ জন প্রবাসী শ্রমিক সে দেশ ছেড়েছে৷

সৌদি সরকারের পরিসংখ্যান দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৭ সালেই গিয়েছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার৷ এছাড়া গত তিন মাসে সৌদি আরব থেকে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ জন শ্রমিক শ্রমবাজার ত্যাগ করেছে৷ তবে এর মধ্যে কী পরিমাণ বাংলাদেশি আছেন, তা জানা সম্ভব হয়নি৷


জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭-২০১৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে গমনের হার প্রায় অর্ধেক হয়েছে৷ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে শ্রমবাজার চালু হলে ২০১৬-তে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন শ্রমিক, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ শ্রমিক দেশটিতে যায়৷ ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজার ৭৬৮ জন সৌদি আরব গেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক৷ শ্রমবাজার প্রসারিত করতে হবে শ্রমবাজার প্রসারিত করার কোনো বিকল্প নেই৷ গত

৪৭ বছরে মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশ ও মালোয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের শ্রমবাজার চলছে৷ এসব দেশের কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলেই শ্রমবাজারে ধস নামে, যেমনটি ঘটেছে সৌদি আরবের কর্মক্ষেত্র সংকোচনের ক্ষেত্রে৷ এক্ষেত্রে বিশেষ বিষয় ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে ইউরোপের বাজারগুলোতে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিলেন শরীফুল হাসান৷ শাকিরুল ইসলাম বললেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ আরো যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে, সেসব দেশের চুক্তিগুলো আরো স্পষ্ট ও জোরালো করা উচিত৷ এখানে চুক্তির ঘাটতিগুলোর দিকে অধিক নজর দিতে হবে৷