ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে এমপি সিরাজের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।



তবে এখনো তিনি আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শিবপুরের নেতাকর্মীদের কথা বিবেচনা করে এবং আওয়ামী লীগের জয়ের বিষয়টি চিন্তা করে মনোনয়ন পরির্বতন করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনিই হবেন নৌকার প্রার্থী। নৌকা পান বা না পান, ধানের শীষের প্রার্থীর লড়াই হবে এমপি সিরাজ মোল্লার সঙ্গেই- এমনটাই দাবি তার কর্মী-সমর্থকদের।

এ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জহিরুল হক ভূঁইয়া। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রাথী জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহনকে পরাজিত করে চমক দেখিয়ে এমপি নির্বাচিত হন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (স্বতন্ত্র)। এর পর গত পাঁচ বছরের শিবপুরে ব্যাপক উন্নয়নসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করেছেন এমপি সিরাজ। তাই সবার আশা ছিল, এবার এ আসনে নৌকার টিকিট তিনিই পাচ্ছেন।

এবার নির্বাচনে সারা দেশের মতো এ আসনেও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। হাতে রেখেছে একাধিক প্রাথী। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন মিন্টু এ তিনজনকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে ভোটাররা বলছেন তাদের মধ্যে যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন লড়াইটা হবে এমপি সিরাজের সঙ্গেই।

এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমি জনগণের সেবায় আমৃত্যু নিয়োজিত থাকতে চাই। কর্মী-সমর্থকদের অনুরোধে আবারও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিবপুরের নেতাকর্মীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবং আওয়ামী লীগের জয়ের কথা চিন্তা করে মনোনয়ন পরির্বতন করবেন। এমপি সিরাজ আরও বলেন, আমার বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকেই নৌকা প্রতীক দেবেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করে শিবপুর আসনটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই।

তার কর্মী সমর্থকরা বলছেন, শিবপুরে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সিরাজুল ইসলাম মোল্লার প্রয়োজন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি উপজেলার মডেল মসজিদ, পৌর ভবন ও পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রায় চার কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনে দিয়েছেন। মোট ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ করেছেন। উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণসহ পুরনো রাস্তার সংস্কার করেছেন। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন।

সূত্র : আমাদের সময়