কাতারে অবস্থানরত সকল প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবর

কাতারের বহুল প্রতীক্ষিত ও বিতর্কিত প্রস্থান ভিসা ব্যবস্থায় সংস্কার আনায় নিয়োগদাতা বা মালিকের অনুমতি ছাড়াই এখন থেকে নিজ দেশে চলে আসতে পারবেন বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসীরা। রবিবার থেকে কাতারে নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘২০১৮ সালের ১৩ নাম্বার আইন…প্রবাসীদের কাতারে প্রবেশ, প্রস্থান ও আবাসন রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে।’



গত সেপ্টেম্বরে কাতার এক ঘোষণায় জানায়, বিতর্কিত কাফালা বা স্পন্সরশিপ ভিসা ব্যবস্থার আইন বাতিলে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনেকেই কাতারের এই কাফালা ব্যবস্থাকে ‘আধুনিক যুগের দাসত্ব’র সঙ্গে তুলনা করেন।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ৫ শতাংশ জনশক্তি তাদের নিয়োগদাতার পূর্বানুমতি ছাড়াই কাতার ত্যাগ করতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, তবে কেউ যদি কোনো কারণে কাতার ত্যাগের অনুমতি না পান তাহলে দেশটির এক্সপ্যাট্রিয়েট এক্সিট কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অভিযোগ দায়েরের তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে কমিটি।

বিতর্কিত এই কাফালা আইনের সংস্কার কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের শ্রম সংস্থার সঙ্গে তিন বছরের এক চুক্তিতে পৌঁছায় কাতার। চুক্তির পর কাতারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হচ্ছে সংস্কারকৃত আইনের বাস্তবায়নের এ ঘোষণা।

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার। বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শ্রম আইনে সংস্কার আনতে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

একই সঙ্গে তারা কাতারের প্রচলিত শ্রম আইনের নিন্দা জানিয়ে আসছে। এমনকি সমালোচকরা কাতারের এক্সিট ভিসা ব্যবস্থা বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে। কাতারে প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক রয়েছে।