বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া শুরু করছে জাপান, রয়েছে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার সুযোগ

বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে জাপানে শ্রমিক নেয়ার জন্য একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার জাপানের নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য এই পরিবর্তনটির অনুমোদন দেয়া হয়।



খসড়া আইনটি শুক্রবারেই সেখানকার পার্লামেন্টে পেশ করা হতে পারে। তবে জাপানের বিরোধী দল ও প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নিজের দলের অনেক সদস্যও এই আইনের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন বিদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি তাদের ব্যবসার জন্য অপরিহার্য।

যেসব শিল্প খাতে শ্রমিক সংকট সেগুলোতে নিয়োগের জন্য এই আইনের আওতায় পাঁচ বছরের ভিসা দেয়া হবে দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের। তবে তাদের পরিবারকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেয়া হবে না।

অধিকতর দক্ষ বিদেশি শ্রমিকরা জাপানি ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখাতে পারলে তাদের ভিসা অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বৃদ্ধি করা হবে। একসময় তারা স্থায়ী বসবাসের সুবিধাও পাবেন এবং তাদের পরিবারকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন।

আবে জোর দিয়ে বলছেন, এর ফলে জাপানের কঠোর অভিবাসন আইনের ব্যাপক পরিবর্তন হবে না।

বৃহস্পতিবার তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, শুধুমাত্র যেসব বিদেশি শ্রমিক কঠিন শ্রমিক সংকটের মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগবে তাদেরকেই জাপানে ঢুকতে দেয়া হবে।

জাপানের যেসব খাতে ব্যাপক শ্রমিক সংকট রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, কৃষি, ভবন নির্মাণ, হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম এবং নার্সিং।

জাপানের জন্ম হার গত শতকের সত্তর দশক থেকে দুই দশমিক একের নীচে। এর মানে হচ্ছে, তখন থেকে জাপানের জনসংখ্যা কমছে। বর্তমানে এই হার এক দশমিক চার। এর বিপরীতে জাপানে মানুষের গড় আয়ু বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। এই দুটি মিলে জাপানে কর্মক্ষম মানুষের মারাত্মক সংকট।

বিবিসির সংবাদদাতা রূপার্ট উইনফেল্ড হেস বলছেন, এটি দেখার জন্য রাজধানী টোকিও ছেড়ে বেশিদূরে যেতে হয় না। স্কুলগুলো খালি পড়ে আছে। খেলার মাঠগুলো শূন্য। ধানের ক্ষেতে কাজ করতে হচ্ছে বৃদ্ধ লোকজনকে।

তবে জাপানে ধীরে ধীরে বিদেশি কর্মীদের আনতে দেয়া হচ্ছে। যেমন অনেক পাড়ার দোকান এখন পুরোপুরি নেপাল থেকে আসা তরুণ কর্মীদের দিয়ে চালানো হচ্ছে। এরা কাগজে-কলমে ছাত্র বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে জাপানে এসেছে। কিন্তু যাদের কর্মী দরকার তাদের ব্যবসা চালানোর জন্য, তারা এদেরকেই কাজে লাগাচ্ছেন।

জাপানের ব্যবসায়ীরা বহু বছর ধরেই যুক্তি দিচ্ছেন যে বিদেশ থেকে কর্মী আনার জন্য ইমিগ্রেশন আইন শিথিল করা দরকার।

তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে বলছেন, তারা কেবল সেরকম কর্মীই আনবেন যাদের কোন একটি বিশেষ কাজে ভালো দক্ষতা আছে এবং যে ধরনের কর্মীর সংকট জাপানে আছে।