সংলাপ নিয়ে খুশি কামাল, নাখোশ ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল্যায়ন ভিন্ন।



সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলার পর বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ড. কামাল সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘আলোচনা ভালো হয়েছে।’

সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সংলাপ হয় দুই পক্ষে। এক পক্ষে আওয়ামী লীগের ১৬ এবং ১৪ দলের চার শরিককে নিয়ে নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। টেবিলের অপর দিকে বিএনপি ও গণফোরামের ছয়, জেএসডির তিন, নাগরিক ঐক্য এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দুই জন করে এবং জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে নেতৃত্বে ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
সংলাপ শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় ড. কামাল এবং মির্জা ফখরুল একটিমাত্র বাক্যে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিস্তারিত কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় ড. কামাল হোসেনকে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে জানতে চান, সংলাপ কেমন হয়েছে। তিনি এক কথায় বলেন, ‘আলোচনা ভালো হয়েছে।’
তবে ফখরুলের মূল্যায়ন পুরোপুরি উল্টো। তিনি বলেন, ‘স্পষ্টভাবে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

তবে কেন সন্তুষ্ট নন সে ব্যাখ্যা না দিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

এর আগে সংলাপ শুরুর আগের দিনও একই অনুষ্ঠানে কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল দুই ধরনের কথা বলেন। কামাল হোসেন বলেন, সংলাপ নিয়ে তিনি আশাবাদী। কিন্তু ফখরুল জানানা, তারা সংশয়ে।

এরপর ওবায়দুল কাদের যা বলেছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন আর ইভিএমে ভোট না নেয়ার দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই নাকচ করেছেন।

তবে রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তালিকা চেয়েছেন। সভা সমাবেশ ও বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা স্বাধীনভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে বলেও নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করণীয় নেই, এটি আইন এবং আদালতের বিষয়-এতদিন ধরে বলে আসা কথাটিই আবার বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।