সংবাদ শিরোনাম :

মায়ের লাশের সঙ্গে সন্তানের ৩০ বছর বসবাস!

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১৮
  • ৩ যত সময় দেখা হয়েছে

পৃথিবীতে প্রত্যেক সন্তানকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তার কাছে সবচেয়ে আপন ব্যক্তি কে? এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় প্রতিটি সন্তানই একবাক্যে উত্তর দিবেন ‘মা’। কেননা না মা শব্দটি এক অক্ষরের হলেও এর মহত্ত্ব ও গভীরতা মেপে শেষ করা যাবে না। এই মা দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন কত কষ্ট করে সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন। তাই মায়ের কাছে যেমন সন্তান প্রিয়, তেমনি সন্তানের কাছেও মা প্রিয় হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মাকে মৃত জেনেও তার সঙ্গে বসবাস করার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল বলেই মনে হয়।

হ্যাঁ, সম্প্রতি ইউক্রেনের মেকোলাইভ শহরে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। ডেইলি মিরর।

মা জীবিত আছেন ভেবে ৩০ বছর ধরে লাশের সঙ্গে বসবাস করেছেন মেয়ে। ওই বাসা থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাটে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে এমন আশঙ্কা থেকে ইউক্রেনের মেকোলাইভ শহরের পুলিশের কাছ ফোন করেছিলেন। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খোলার পর দেখতে পান মেঝেতে পড়ে আছেন ৭৭ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধা।

পাশের আরেকটি ঘরে শায়িত অবস্থায় রয়েছে ১টি কঙ্কাল। এই কঙ্কালের চারিপাশে ধর্মীয় মূর্তি রাখা ছিল। আবর্জনায় ভর্তি ছিল পুরো বাড়িটি। বাড়িতে অনেক খবরের কাগজও রাখা ছিল। কঙ্কালটি ছিল সাদা পোশাকে মোড়ানো। কঙ্কালের পায়ে পড়ানো ছিল নীল রঙের জুতা আর সবুজ মোজা।

এ ব্যাপারে ওই বৃদ্ধা জানান, সাদা পোশাকে মোড়ানো কঙ্কালটি তার মায়ের। ৩০ বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। মৃত্যু হলেও তিনি বিশ্বাস করেন এখনো বেঁচে আছেন তার মা।

পুলিশ যখন ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তখন তিনি অনেক অসুস্থ ছিলেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা নারী একাই থাকতেন। তিনি কারো সাথে মিশতেন না। নিজের ঘরের সামনের দরজাও কখনো পুরোপুরি খুলতেন না তিনি। ওই বৃদ্ধা যা পেনশন পেতেন তা দিয়েই চলতেন।

কখনো কখনো প্রতিবেশীরা ওই বৃদ্ধার দরজার সামনে খাবার রেখে যেত। বছর কয়েক হলো ওই বৃদ্ধার পা দুটি প্যারালাইজড হয়ে যায়। এরপর থেকে হুইল চেয়ারেই চলাফেরা করতেন তিনি। কিছু দিন আগে ওই বৃদ্ধা সেই শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেন।

পোস্টটি আপনার বন্ধুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
About Us | Privacy Policy | Term and Condition | Disclaimer |© All rights reserved © 2021 probashirnews.com