ছিনতাইয়ের নেশায় দুবাই থেকে চলে আসে ফরিদ

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৭, ২০১৮ / ১১:৫৫অপরাহ্ণ
ছিনতাইয়ের নেশায় দুবাই থেকে চলে আসে ফরিদ

পনেরো বছর ধরে ছিনতাইয়ের কাজে জড়িত মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মো.ইসমাইলের ছেলে শেখ ফরিদ পেশায় ছিলেন সিএনজি ট্যাক্সি চালক। ট্রাক্সি চালাতে গিয়েই পেশাদার ছিনতাইকারীদের সঙ্গে পরিচয় এবং ২০১০ সালে এই অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এমনটি তথ্য দিয়েছে ছিনতাইকারি ফরিদ। মাঝখানে একবার দুবাই গিয়েছিলো। কিন্তু সেখানে থাকতে পারেননি। এক বছরের মধ্যেই ছিনতাইয়ের নেশায় ফিরে আসেন দেশে। এমনই কৌশলী ফরিদ, আট বছর ধরে ছিনতাই করলেও ধরা পড়েছে এই নিয়ে মাত্র দুইবার। তাদের গ্রুপে ছিনতাইকারি রয়েছে অন্তত ২০ জন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো.কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত সমানে ছিনতাই করে গেছে ফরিদ। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর দুবাই চলে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে- সেখানে গিয়ে ফরিদ দেখল কাজে পরিশ্রম বেশি, টাকা কম। এর চেয়ে ছিনতাই ভাল। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আবারও ছিনতাই শুরু করে।
নগরীর এম এম আলী রোডের মুখে এক বৌদ্ধভিক্ষুকে ছিনতাইয়ের মামলায় ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রথম ফরিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসময় ফরিদের সঙ্গে ছিনতাইকারী ইউসুফ এবং ভুট্টোও গ্রেপ্তার হয়। দুই মাসের মধ্যে তারা জামিনে ছাড়া পায়। এরপর আবারও শুরু হয় ব্যাগ টানার কাজ। রাঙামাটি জেলার তবলছড়ি থানার ইসমাইল মিস্ত্রির ছেলে ইউসুফ ২০০৩ সালে প্রথম ডাকাতি মামলায় নগরীর চান্দগাঁও থানায় গ্রেপ্তার হয়। ২০১০ সালে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী হামকা গ্রুপের নূরে আলমের দলে যোগ দেয়। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সঙ্গেও যুক্ত হয় ইউসুফ। ২০১৫ সালে কারাগারে ইউসুফের সঙ্গে জাকির, ভুট্টু ও নজরুলের পরিচয় হয়। তারা ইউসুফকে ব্যাগ টানা পার্টিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ইউসুফ দেখল-স্বাভাবিক ছিনতাই কিংবা ডাকাতির চেয়ে ব্যাগ টান দেওয়ার মধ্যে ঝুঁকি কম। ট্যাক্সি থেকে ব্যাগ টান দিয়ে চলে গেলেই হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারও উপর আক্রমণ করে ছিনতাই করতে গেলে ধরা পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই চিন্তা করে ২০১৫ সালে ইউসুফ টানা পার্টিতে যোগ দিল। সাহসী হওয়ায় ইউসুফের উপরই ব্যাগ টান দেওয়ার দায়িত্ব থাকত। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তারা ব্যাগ টান দেওয়ার মাধ্যমে ছিনতাই করে। দিনে তাদের নজর থাকে ট্রেন ও বাসযাত্রীদের উপর। সন্ধ্যার পর মার্কেট-শপিংমল থেকে ফিরতি রিকশাযাত্রী নারীরা। তারা প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি ছিনতাই করে।
‘একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে তিনজন করে থাকে। ছয় থেকে সাতটি ট্যাক্সি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সড়কে ছিনতাই করতে বের হয়। শহরের সিটি গেট থেকে বড়পুল, ওয়াসা-আলমাস-আসকার দীঘির পাড়, জাকির হোসেন রোড, ফয়সলেক জিইসি থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত নির্জন এবং প্রশস্ত সড়কে তারা ছিনতাই করে। ’ পুলিশ জানায়, এক মাসের চুক্তিতে তারা সাধারণত ‘অনটেস্ট’ ট্যাক্সি ভাড়া করে। দ্রুতগতিতে চলতে গ্যাসের বদলে অকটেন ব্যবহার করে তারা। এসব সিএনজি ট্যাক্সি মেরামতের জন্য আছে নির্দিষ্ট মিস্ত্রি। রবিবার দিবাগত রাত একটার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় পূবালী মাঠসংলগ্ন রেললাইনের পাশে গুলিবিনিময়ের পর ফরিদ ও ইউসুফকে আটক করতে সক্ষম হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। নগরীতে এক বৃটিশ নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্রে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভিডিওটি দেখুন এখানে