শীর্ষস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কাতার

প্রকাশিত: ফেব্রু ২০, ২০১৮ / ০১:০০পূর্বাহ্ণ
শীর্ষস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কাতার

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় কাতারের অবস্থান শীর্ষে। তবে এ খাতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্থানে শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কায় রয়েছে দেশটি। বিশেষত দোহার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবরোধের পর এ আশঙ্কা আরো প্রকট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি আয় বৃদ্ধি ও এলএনজি রফতানিকারকদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার পেট্রোলিয়াম। এ পরিকল্পনার আওতায় কাতারের এলএনজি উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা ২ কোটি ৩০ লাখ টন বাড়ানো হবে। খবর রয়টার্স ও দ্য পেনিনসুলা।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমানে কাতারের প্রতি বছর গড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক গড় উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ টন বাড়িয়ে ১০ কোটি টনে উন্নীত করতে আগ্রহী দেশটির সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাতার পেট্রোলিয়ামের আওতায় নতুন করপোরেট স্ট্র্যাটেজি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ কৌশলের আওতায় দেশটির ভূখণ্ডে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা কাতার পেট্রোলিয়ামের আওতাধীন কূপগুলো থেকে উত্তোলন করা প্রাকৃতিক গ্যাস আরো বেশি পরিমাণে এলএনজিতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে এলএনজি উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা ১০০ কোটি টনে উন্নীত করতে কাতার সরকার কাতার পেট্রোলিয়ামের আওতায় লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম বর্তমানের তুলনায় আরো জোরদার করবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কাতার পেট্রোলিয়ামের সিইও সাদ সেরিদা আল কাব্বি বলেন, আমরা এলএনজি রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। কাজেই জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কৌশল প্রণয়নের এটাই উপযুক্ত সময়। এ কৌশল এলএনজি খাতে কাতার পেট্রোলিয়ামের সক্ষমতাকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করবে।

এদিকে লন্ডনভিত্তিক গ্লোবাল ডাটার তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি উৎপাদনে সক্ষমতার দিক থেকে ২০১৮ সালে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে কাতার। তালিকায় এর পরই অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান। চলতি বছর দেশটির এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ৭ কোটি ৫৩ লাখ টনে। এর পরের অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ৩ কোটি ২১ লাখ টনে। চলতি বছর প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এলএনজি রূপান্তরের বৈশ্বিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৩ শতাংশ থাকবে কাতারের দখলে। ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশটির নতুন কোনো পরিশোধন কেন্দ্র চালুর কথা এখনো জানানো হয়নি। সে হিসাবে ২০১৮ সালে কাতারের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ টন পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালে বৈশ্বিক এলএনজি পরিশোধন সক্ষমতার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশটি আরো তিনটি নতুন পরিশোধন কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছর বৈশ্বিক এলএনজি পরিশোধন সক্ষমতার ৮ দশমিক ৪ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইন্দোনেশিয়ার হাতে। জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর জের ধরে দেশটিতে এলএনজি উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। বিপরীতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে দোহার বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবরোধের কারণে জ্বালানি পণ্যটির বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে কাতার প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি থেকে এলএনজি রফতানি আগের তুলনায় কমলে পণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় অচিরেই কাতারকে ছাপিয়ে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এ সম্ভাবনা থেকেই এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর নতুন কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে কাতার পেট্রোলিয়াম।

কাতার পেট্রোলিয়ামের সিইও বলেন, এলএনজির বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন নতুন বাজারে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি শুরু করার বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকে এলএনজি খাতে নতুন কৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে, যা জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় নেতৃত্বের আসন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।